A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable

Filename: controllers/Article.php

Line Number: 51

Backtrace:

File: /home/wisdomacade/public_html/myapplication/controllers/Article.php
Line: 51
Function: _error_handler

File: /home/wisdomacade/public_html/index.php
Line: 315
Function: require_once

Witty Educational Institute Management Software - Wisdom Academy

ইতিবাচক অভিভাবকত্ব (Positive parenting)

ইতিবাচক অভিভাবকত্ব (Positive parenting)

Umarah Junnah Khan   16 March 2021   100 Last Updated : 10:01 AM 16 March 2021

ইতিবাচক অভিভাবকত্ব (Positive parenting)

 

বি ইসমিহী তা’লা

বহুদিন আগের কথা। আমাদের মাসজিদের ইমাম সাহেব ছুটিতে গিয়েছিলেন, আমাকে মাগরিব, ইশা, ফজরের নামাজ পড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন। প্রথমদিন নামাজ পড়াতে দাড়িয়ে দেখি সামনের কাতারে ইমামের কাছাকাছি বিদেশী এক ভদ্রলোক দাড়িয়েছেন। উনার দাড়ানোতে একটি ভুল আছে, আমি ঠিক করে দিলাম। দ্বিতীয় দিন একই ব্যক্তি একই জায়গায় দাড়িয়েছেন এবং উনার আরেকটি ভুল আমার চোখে পড়ে, আমি আবার ইশারায় ঠিক করে দিলাম। তৃতীয় দিন একই রকম এবং তিনি আরো একটি ভুল করেন, মজার ব্যপার!আজকে উনি কাচুমাচু হয়ে আমার দিকেতাকিয়ে আছেন যে, আমি আজ কী ভুল ধরি। আজও আমি হাসি দিয়ে তাঁর ভুলটি ঠিক করে দিলাম, এবং তিনিও হাসি মুখে ঠিক করে নিলেন। কিন্তু তাঁর হাসিতে ছিলো একটু বিরক্তির চিহ্ন ! নামাজ শেষে তিনি মাসজিদের বাহিরে অপেক্ষা করছিলেন আমার সাথে দেখা করার জন্য। যথারীতি দেখা হল, ভদ্রলোক আরবিভাষী, আমিও আরবি জানি বিধায় গল্প জমলো। এক পর্যায় তিনি বললেন, তুমি খালি আমার ভুল ধর! আমি হাসি দিয়ে বললাম, সামিহনী (আমাকে মাফ করে দিন)।

 

তারপর থেকে আমি ভাবতে শুরু করি যে, আমার কী করা উচিৎ ছিল। বহুদিন পর তার উত্তর পেলাম। দুইটা বিষয় আছে, যা একসাথে ধারাবাহিক ভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একসাথে না হলে বা ধারাবাহিকতা না থাকলে সাধারণত ফলাফল আশানুরূপ হয় না। 1. সম্পর্ক, 2. সংশোধন। এই দুটি বিষয়ই যেমন প্রয়োজন, তদ্রুপ উভয়ের ধারাবাহিকতাও খুবই জরুরী। আগে সম্পর্ক গভীর হতে হবে, তারপর সংশোধন।  সম্পর্ক গভীর হলে অনেক সময় দেখে দেখেই ঠিক হয়ে যাবে, বা ঠিক করে দিলে তা অন্তর দিয়ে মেনে নিবে।

 

ইতিবাচক অভিভাবকত্ব (Positive parenting) একটা জীবন পরিচালনা পদ্ধতির নাম। প্রতিদিন যদি এটার অনুশীলন করতে থাকি, তাহলে এটার  ‍সুপ্রভাব আমাদের সন্তাদের মধ্যে পড়বে।

 

বাবা-মা, সন্তান একটা সম্পর্কের নাম। যার দুটি দিক রয়েছে, 1. জন্মদাতা হিসেবে সম্পর্ক, যা আল্লাহ প্রদত্ত। 2. সুসন্তান হিসেবে গড়ে তোলার সম্পর্ক্, যা বাবা-মায়ের কৌশল ও সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমেই সম্ভব।

 

সুসন্তান গড়ে উঠে শিক্ষাদানের মাধ্যমে। শিক্ষাদানের কৌশলসমূহের একটি কৌশল হলো ‘সংশোধন’। বর্তমান সমাজে লক্ষ্য করা যায় যে, সুসন্তান গড়ার একমাত্র পন্থা আমরা অবলম্বন করে থাকি, তা হলো ‘সংশোধন’।

 

অভিভাবক হিসাবে নিজ সন্তানের ভবিষ্যতের একটা লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে হবে। যা হবে সন্তানের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও মনমানসিকতার দিকে লক্ষ্ রেখে; বাস্তবমুখী।

 

সব বাবা-মাই চায়, তার সন্তানকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বেসর্বা বানাতে, যা পুরনার্থে সন্তানদের উপর অমানবিক একটি জীবন চাপিয়ে দেয়া হয়, সন্তানের ক্ষমতা আছে বিন্দু, চাপিয়ে দিচ্ছি সিন্ধু, যা জুলুম বৈ কিছু নয়।

 

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে দুইটি কালামুল্লাহর আয়াত নিয়ে আলোচনা করি।

 

1. আল্লাহ তা’লার এরশাদ, “আল্লাহ প্রদত্ত সেই যোগ্যতা যেই যোগ্যতা দিয়ে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন নাই”। (রুম-30)

 

2. আল্লাহ তা’লার এরশাদ, “আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে, তোমরা কিছুই জানতে না। অতঃপর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তকরণ সৃষ্টি করেছেন। যাতে তোমরা শোকর আদায় কর। (নাহাল-78)

 

বুঝার সুবিধারথে একটি উদাহরণের মাধ্যমে বলছি, বর্তমানে কম্পিউটার আবিস্কার হয়েছে। তার মধ্যে দুইটা অংশ আছে 1. হার্ডওয়্যার (Hardware) 2. সফ্টওয়্যার (Software)। হার্ডওয়্যারের ভিতর অনেক ধরনের যন্ত্রাংশ আছে, যা দেখা যায়। এবং এই যন্ত্রাংশের মধ্যে ধারণক্ষমতা এবং পরিচালনা করার যোগ্যতা আছে, কিন্তু এগুলো রক্ষিত (Intact) অবস্থায় আছে। এবার বাইরের থেকে সফ্টওয়্যার (Program) যা দেখা যায় না, স্থাপন (Install) করতে হবে। এবার কম্পিউটার চলবে। হার্ডওয়্যার, তার ধারণক্ষমতা ও পরিচলনা করার যোগ্যতা, এ দুটি যেমন; মানুষের শরীর ও ফিতরাত। যে দুটাই পরিপূর্ণভাবে রবের সৃষ্টি।

 

এবার হল “আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন নেই” এর অর্থ কী? প্রতিটি প্রাণীকে আল্লাহ তা’লা পৃথক যোগ্যতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তৃণভোজী প্রাণী যা নরম স্বভাবের হয়, মাংসাশী প্রাণী যা হিংস্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। এ গুলো হল সৃষ্টিগত যোগ্যতা, যার মধ্যে পরিবর্তন নেই, হিংস্র প্রাণী ঘাস খায় না; গরু-ছাগল মাংস খায় না ইত্যাদি। তদ্রুপ মানুষের সৃষ্টির মধ্যে কোন ধরণের পরিবর্তন হয় না।

 

 (এবার বাইরের থেকে সফ্টওয়্যার (Program) যা দেখা যায় না, স্থাপন (Install) করতে হবে। এবার কম্পিউটার চলবে)। তদ্রূপ “উসওয়াতুন হাসানাতুন” তথা উত্তম চরিত্র। সন্তানকে, সামাজিক বা ধর্মীও দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তম চরিত্র দ্বারা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যাতে করে সে ইহকালে সন্মানীত ও আদর্শবান মানুষ হতে পারে। ঈমানদার হলে, মৃত্যুর পর সব চেয়ে বড় সফলতা ‘জন্নাতের’ অধিকারী হতে পারে।

 

আমাদের মধ্যে একটি বিষয় খুব লক্ষ্য করা যায় যে, আমরা অন্যের চরিত্র চর্চায় মজা পাই, অথচ স্বচরিত্রের ব্যপারে উদাসীন! আল্লাহ তা’লার এরশাদ, “তোমরা মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও, এবং নিজেরা নিজেরদেরকে ভুলে যাও”! (বাকারা-৪৫)

‘চরিত্রবান’ শব্দটি হল একটি বিশেষণ, যা নিজের অর্জন করার বিষয়, অন্যেরটা চর্চা করার নয়।

 

একজন মানুষ, প্রকৃত মানুষ কখন হয় – অবয়ব দ্বারা? নাকি গুনাবলির দ্বারা?

 

আল্লাহর সৃষ্টি মানুষ; তিনি বলেন, “নিশ্চই আমি মানুষকে সর্বোত্তম অবয়ব দিয়ে সৃষ্টি করেছি”। (তীন-৪) মানুষ জন্ম গ্রহণ করে, তার শরীর এবং দিল ও দেমাগ সংরক্ষিত অবস্থায় থাকে। যে দেখে, সেই তাকে “মানুষ” হিসাবেই চিনে।

 

আল্লাহর বাণী, “নিশ্চই আল্লহর কাছে নিকৃষ্টতম জীব (মানুষ) সেই বধির ও বোবা লোক, যারা বুদ্ধি কাজে লাগায় না”। (আনফাল- 22)

 

উক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, সর্বোত্তম অবয়বেরর মাধ্যমে মানুষ উৎকৃষ্ট মনুষ্যত্ব লাভ করতে পারে না; বরং একজন মানুষ প্রকৃত ও উৎকৃষ্ট মানুষ হয়; মানবিক গুণাবলির মাধ্যমে, যা শিক্ষা দেয়ার দায়িত্ব বাবা-মায়েরই।

 

 

একজন মানুষ; ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয় গুণাবলির মাধ্যমে। মানবিক গুণাবলি অনেক ধরণের আছে। কিছু গুণ আছে যা অর্জন করার দ্বারা একজন মানুষ ব্যক্তিত্ববান হতে পারে।

 

আত্মভালবাসা: নবিজীর স. এরশাদ, “বুদ্ধিমান সেই যে নিজেকে চিনতে পারে”। হাদিস। নিজেকে ভালবাসা; আর অহংকার, গর্বিত হওয়া এক নয়। নিজেকে যে ভালোবাসতে শিখে সে তার নিজের দায়িত্ব গ্রহণ করে, নিজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং নিজে নিজের সীমা-রেখা বুঝতে পারে। যার দ্বারা অন্যের কাছে লজ্জিত বা ছোট হতে হয় না। একজন ব্যক্তি এভাবেই অন্যের কাছে ব্যক্তিত্ববান ও ভালবাসার পাত্রে পরিণত হতে থাকে।

 

একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল, বহুদিন আগে একদিন ঢাকা মেডিক্যালে আমার মামা, প্রফেসর ডাক্তার ফারুক আহমেদ সাহেবের চেম্বারে বসা, রুগী আসে, উনি দেখেন। একজন রোগী আসলো, সে পুরাতন রোগী, সে তার ব্যাগ থেকে একটি ফাইল বের করলো, যার মধ্যে তার সমস্ত কাগজপত্র তারিখ অনুসারে সাজানো ও পিনআপ করা। তার গুছানো কাগজপত্র দেখে ডাক্তার (মামা) তার পরিচয় জানতে চাইলন। সে একজন ছাত্র। আমার ডাক্তার (মামা) প্রেসক্রিপসন দিয়ে দিলেন, সে চলে গেলো। এবার ডাক্তার সাহেব অর্থাৎ মামা তার প্রশংসা করলেন যে, ছেলেটি গোছানো স্বাভাবের, খুব ভদ্র, মনে হয় ভালো ছাত্র। এই যে ছেলেটি অন্যের চোখে পড়লো এবং সন্মান ও ভালবাসা পেলো, তার করণ এই যে, সে নিজেকে চিনতে পেরেছে বিধায় নিজের যত্ন নিয়েছে।

 

আমার ছেলে, পড়ালেখা করে, বাচ্চা মানুষ! তাই তার কাছে মনে হয়েছে যে, আমরা আমাদের সার্থে তাকে পড়ালেখা করাচ্ছি এবং তার উপর অতিরিক্ত বঝা চাপিয়ে দিয়েছি! আমি তাকে একদিন বুঝালাম, যে প্রতিটি মানুষেরই একটি পেশা থাকে যেটা সে নিষ্ঠার সাথে পালন করে থাকে। আর তোমার পেশা হল পড়ালেখা, তুমি এখন কি করবা? সে বললো ভালো করে পড়ালেখা করব।

 

 

ছোট বয়স থেকে তাদেরকে প্রতিটি কাজ বুঝে বুঝে করার চেষ্টা করানো। আমরা এখন বকা দিয়ে কাজ করিয়ে নেই। তা না করে, বরং তাকে বুঝতে দেয়া যে, যদিও সে ছোট, কিন্তু সে একজন ‘পৃথক মানুষ’।

 

দায়িত্বশীলতা: ‘দায়িত্বশীল নাগরিক’ বলতে আমরা কী আশা করি? প্রথমত, একজন মানুষকে সর্বার্থে ভাল, সৎ ও দায়িত্ববাণ তখনই বলা যায়, যখন সে নিজের, পরিবারের, সমাজ ও রাষ্ট্রের ব্যাপারে দায়িত্ববান হবে। একজন দায়িত্ববান ব্যক্তির কী কী গুণাবলি থাকা উচিত: সততা, নিজের ও অপরের প্রতি সম্মানবোধ ও ভালবাসা, সহমর্মিতা, ধৈর্য, উদারতা, দায়িত্বশীলতা, বিশ্বাস এবং তার প্রতি অন্যের আস্থা অর্জন, পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতার সচেতনতাবোধ, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতিবাচক চিন্তাচেতানা পরিহার করা, সর্বক্ষেত্রে ইতবিাচক মানসিকতা অর্জন করা ইত্যাদি।

 

কিভাবে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হতে পারি? বাচ্চারা সবসময় বাবা-মা কে বেশি নকল করে। পূর্বে আলোচিত হয়েছে : আল্লাহ তা’লার এরশাদ, “আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে, তোমরা কিছুই জানতে না। অতপর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তকরণ সৃষ্টি করেছেন। যাতে তোমরা শোকর আদায় কর। (নাহাল-78)।

 

একটি শিশু জন্মের পর থেকে তার বৃদ্ধি শুরু হয়ে যায়, শারীরিক ও মানসিক। শারীরিক বৃদ্ধির দেখাশুনা আমরা করি পুষ্টিকর খানা-পিনা, জামা-কাপড়-জুতা-মোজা ইত্যাদি দ্বারা, এ ব্যাপারে পরামর্শ্ দেয়ার বা সহযোগিতা করার অনেকেই থাকেন।

 

মানসিক বৃদ্ধির ব্যাপারে মা-বাবা বিশেষভাবে মায়েরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিশুটির পরিচর্যা করে থাকেন। প্রতিটি শিশুই তার বাবা-মায়ের অতি আদরের হয়ে থাকে। যার ফলে দেখা যায়, যে বাবা-মায়ের আবেগ, বাস্তবতার চেয়ে বেশি হয়, সন্তান আকম্মা (misleaded) হয়। অনেক সময় সন্তানকে বাস্তবমুখি বানানোর জন্য তারা, এত কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন করে যে, বাচ্চাটা বাবা-মায়ের থেকে দুরে সরে যায়।(!!Dangerous communication gap) অথচ হওয়া চাই, সহনশীল, স্নেহভরা, বাস্তববাদি একটি “সম্পর্ক”।

 

বর্তমানে প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় আসে যে, বাবা-মা বকা দিয়েছে, বাচ্চাটা আত্মহত্যা করেছে বা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তার কারণ আমরা বাচ্চাদের মনটাকে বুঝে তার সাথে সম্পর্ক করি নাই; বরং আমাদের মনমত পরিচালনার মাধ্যমে তাদের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত রাখতে চাই। যে কারণে তারা পরনির্ভরশীল (misguided) হতে বাধ্য হয়।   

 

করণীয়: বাচ্চাদের ইচ্ছা বা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার ইচ্ছাকে মুল্যায়ন করা এবং সর্ব কাজে, কথায় ও চিন্তায় তাদেরকে উৎসাহ দেয়া। তারপর তাকে ভালো-মন্দ দিকটি নিয়ে আলোচনা করা বা বুঝানো এবং তাদের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত চাওয়া যে, এখন তুমি কি চাও।

 

একটি বিষয় আলোচনা জরুরি, বাবা মায়েরা, অনেক সময় পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে সন্তানদের ব্যপারে বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সাধারণত আমরা, যে কারণেই হোক সিদ্ধান্ত নিয়ে, সন্তানদের উপর চাপিয়ে দিয়ে থাকি, এতে করে বাচ্চাদের অনেক কষ্ট হয়, বাবা মাকে ভূল বুঝে, তাদের সাথে দুরত্ব সৃষ্টি হয়। করণীয় হল, বাবা মা যে কারণেই উক্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, চাই তা অর্থনৈতিক, পারিবারিক, সামাজিক বা বাচ্চাটার বেশি ভালোর জন্য ইত্যাদি যাই হোক, সন্তানের বয়স কম হলেও তাকে একজন পৃথক মানুষ মনে করে তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করা উচিৎ। এতে করে সন্তানের দায়িত্ববোধ ও বাবা মায়ের প্রতি ভালোবাসা বাড়বে।

 

স্ব জওয়াবদিহিতা: নবীজীর স. হাদিসে একটা শব্দ আছে “ইহতিসাব” হিসাব করা বা পরিতৃপ্তি। প্রতিটি কাজের একটা পরিমাণ, পরিধি এবং গণাগুণ থাকে। পরিমাণ ও পরিধি দেখা যায়, আন্দাজ করা যায়, কিন্তু কাজের মূল্যায়ন ও পরিতৃপ্তি লাভ হয় গুণাবলির উপর। “ইহতিসাব” হল প্রতিটি কাজের শেষে পরিতৃপ্ত হতে পারলাম কিনা তা নিশ্চিত করা। আমার মনে পড়ে, একবার আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষা সমন্বয়ক (co-ordinator) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমার পড়ানোর ব্যাপারে ছাত্রদের কোনো মন্তব্য আছে কিনা, তিনি বড় সহজ ভাষায় উত্তর দিলেন, “আপনি ক্লাস করে যদি আনন্দিত হয়ে থাকেন, তাহলে ছাত্ররাও বুঝেছে”। এটার নাম পরিতৃপ্তি। অন্যকে জওয়াব দেয়ার পূর্বে আমি পরিতৃপ্ত হলাম কিনা, এটাই মুল জিনিস।

 

করণীয়: সন্তানদেরকে ছোটবেলার থেকেই প্রতিটি কাজ পরিপূর্ণরুপে, সাজানো-গোছানো ও সুন্দরভাবে করা শিখানো। আল্লাহ তা’লার প্রতিটি হুকুমের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝা যায়, যে কত পরিপূর্ণ, সাজানো-গোছানো ও সুন্দর! যেমন নামাজ, উঠা বসা করলেই হয় না, বরং পুর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করা, পবিত্রতা, পরিধান, নিয়াত, দিক নির্ধারণ, তাকবীরে তাহরীমা, দাড়ানো, রুকু, সিজদা, বৈঠক, সালাম ইত্যাদির নিয়ম, কোথায় কি পড়বে, হাত কখন কোথায় থাকবে সব বলে দেয়া আছে, নামাজ শেষ করতে চাইলে সালাম ফেরাতে হবে। আল্লাহু আকবার! কত পরিপূর্ণ!!

 

আত্ম-নির্ভরশীলতা: আত্ম-নির্ভরশীলতা বলতে বুঝি, নিজের উপর বিশ্বাস বা নিজের বিদ্যা, বুদ্ধি, দক্ষতা ইত্যাদিকেই বুঝায়। বিদ্যা, বুদ্ধি, দক্ষতা থাকলেই আত্ম-বিশ্বাসী বা আত্ম-নির্ভরশীল এমনটি নয়, বরং আত্ম-বিশ্বাসী বা আত্ম-নির্ভরশীলতা ‘অর্জন করার বিষয়’ যা ধীরে ধীরে অনুশীললেনর মাধ্যমে নিজের মধ্যে তৈরী করতে হয়। আত্ম-বিশ্বাসী বা আত্ম-নির্ভরশীল হওয়ার জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়! শারিরীক সুস্থতা, যার জন্য প্রয়োজন প্রতিদিন পরিমিত বেয়াম করা। সারাদিনের কাজের রুটিন তৈরী করা। নিজের কাজ নিজে করা। এবং নিজে নিজে কাজ করে কর্ম দক্ষতা অর্জন করা। একবারে নাহলে বার বার চেষ্টা করা । কোন কাজকে বড় মনে করে ভয় না পাওয়া; বা ছোট মনে করে নগণ্য না ভাবা। কাজ কাজই। মানুষের দ্বারাই তা সম্পাদিত হয়, তাই কাজের দ্বারা দক্ষতা অর্জন করা। অন্যকে কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলা। নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা না করা। অন্যের সাফল্য নিয়ে চিন্তা না করা; বরং নিজেকে নিয়ে খুশি থাকা ও আরো উন্নতি করার চেষ্টা করা। অন্যের কাজের, সামনে-পেছনে প্রশংসা করা, উৎসাহ দেয়া। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা, বিপদাপদ ও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে মনোবল না হারিয়ে মোকাবেলা করার মনভাব তৈরী করা। সবসময় আমি পারবো বা আমার দ্বারা হবে, এরকম মনোভাব পোষণ করা। ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা, ভালোকে ভালো ও মন্দকে মন্দ বলার সাহসিকতা অর্জন করা। নিজে যা পারবো বা করবো তার জন্য সরাসরি ‘হ্যাঁ’ আর যা পারবোনা বা করবোনা তার জন্য সরাসরি না বলা, ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বা ইনিয়েবিনিয়ে কথা না বলা। নিজের পথে চলতে গেলে বাধা বিপত্তি আসবেই, বাধাকে সাফল্যের সিড়ি মনে করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের লক্ষে পৌঁছাতে হবে। ‘সফল’ মানুষের সাথে চলাফেরা করতে হবে। ভুল মানুষের সংস্পর্শ ত্যাগ করা চাই। উৎসাহমূলক বই, গল্প, ঘটনা বা আলোচনা শুনে বা পড়ে নিজের জীবনে তা অর্জন করার চেষ্টা করা ইত্যাদি। এসব বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রেখে সন্তানদের বড় করা চাই।

 

আমাদের আলোচ্য বিষয় ছিল, পজিটিভ প্যারেন্টিং বা ইতিবাচক অভিভাবকত্ত একটি জীবন পরিচলানা পদ্ধতির নাম।

 

আমরা চারটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, আত্বভালবাসা, দায়িত্বশীলতা, স্ব জওয়াবদিহিতা, আত্ম-নির্ভরশীলতা। আরো অনেক বিষয় আছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ হল সন্তানকে এসব গুণে গুণান্নিত করে তোলার একটি পদ্ধতি অবলম্বন করা ও পরিবেশ তৈরি করে দেয়া।

 

 

একজন দায়িত্ববান অভিভাবক, আমরা আমাদের ভাষায় তাদেরকে ‘মুরুব্বি’ বলে থাকি, শব্দটি আরবী, অর্থ হল প্রতিপালক বা রক্ষক। একজন দায়িত্ববান অভিভাবকের গুণাবলী কী কী হওয়া চাই, আল্লাহ তা’আলা আমাদের ‘রব’ অর্থাৎ প্রতিপালক। তিনি যে গুণাবলী দিয়েছেন তা লক্ষ্য করা যাক, “আর-রহমান” অতিশয় দয়ালু, “আর-রহীম” অতিশয় মেহেরবান, “মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন” বিচারের দিনের মালিক। অভিভবক হবে দয়ালু, মেহেরবান, স্নেহশীল, মায়াময়ী, তবে বিলীন হয়ে যাওয়া যাবে না। বরং দয়া, মায়া, স্নেহ, মেহেরবানি হবে জওয়াবদিহিতার অধীনে। উক্ত জওয়াবদিহিতা কঠোরতা নয়; বরং ছাড় দেয়ার মনোভাবাপন্ন হবে। উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তা’লা বলেছেন, “বিচার দিনের মালিক”। তিনি হলেন ‘মালিক’ অর্থাৎ মালিকানাধীন জিনিস বা বিষয়ে ইচ্ছামত ছাড় দেয়ার অধিকার রাখেন। তদ্রুপ অভিভাবক, জওয়াবদিহিতা শিক্ষা দেয়ার জন্য করবে, কঠোরতা বা শাস্তি দেয়ার জন্য নয়।

 

সন্তানকে, নিজেকে বুঝার, চিনার, তার নিজের যোগ্যতাকে জানার ও প্রকাশ করার সুযোগ করে দিতে হবে।

 

বর্তমানে আমরা “সংশোধনকে” প্রাধান্য দিয়ে থাকি। “সম্পর্কটাকে উহ্য” রাখি, যার কারণে বাচ্চারা আমাদের থেকে দুরে সরে যায়।

 

বর্তমান সারা বিশ্বের একটিই চাওয়া! নিষ্ঠাবান, ব্যক্তিত্ববান, প্রগতিশীল মানুষ। প্রশ্ন হলে, পাবে কোথায়? প্রগতিশীল বিশ্ব! তাদের ত্রুটিহীন গবেষণার পর রেজাল্ট দিল ... যার বিরোধিতাকারি পাওয়া যায়নি...!

 

নেপোলিয়া্ন বলেছেন, “আমাকে একজন ভালো মা দাও, আমি একটি ভালো জাতি উপহার দিবো”।

 

অতি আশ্চর্যে্র বিষয়! আজ নেপোলিয়ান বলেছেন বিধায় আমরা এই কথা মেনে নিয়েছি।

অথচ সহস্রাধিক বছর পূর্বে মানবজাতির মানবতার দিশারী সর্বকালীন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নবিজী মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী- “মহিলা; দায়িত্বশীল তার স্বামীর ঘর এবং স্বামীর সন্তানদের ব্যপারে”। হাদিস।

 

আদর্শবান, নীতিবান, ব্যক্তিত্ববান, প্রগতিশীল ইত্যাদি যাই বলি, যা তৈরির নীতি নির্ধারক একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা’লা, কারণ তিনি এরশাদ করেন “এটাই আল্লাহর নিয়ম, যা পূর্ব হতে চলে আসছে। তুমি আল্লাহর নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না”। ফাতাহ-23।

 

ননিজীর আদর্শ যদি লক্ষ্য করি, উনার আপাদমস্তক এবং ব্যক্তি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত তাঁর গুণের বর্ণনা শেষ করা যাবে না।

 

পরিশেষে করণীয়: নবীজীর স., আদর্শকে জীবন ব্যবস্থার পথ ও পন্থা বানিয়ে সন্তানদেরকে গড়ে তোলা।

 

মুহাম্মাদ খান

প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক

উইজডম একাডেমী

একটি আদর্শ ইংলিশ মিডিয়াম এবং ইসলামিক স্কুল

Last Updated : 10:01 AM 16 March 2021